জাফলং এর বল্লাঘাট পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায়, শ্রমিকরা উপার্জনের জন্য বেছে নিলেন জাফলং পিয়াইন নদী।

কালাচান কর্মকার,সিলেট ভ্যালী প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : মঙ্গলবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯
  • ৮৮৫ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ মহামান্য আদালতের নির্দেশে সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি জাফলং সহ সকল পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকার কারণে, কোন ভাবে সংসার চালানোর জন্য, উপার্জনের ক্ষেত্রে জাফলং পিয়াইন নদী বেছে নিয়েছেন বলে শ্রমিকরা জানান।

সকালে জাফলং ব্রীজের উপরে দাঁড়িয়ে থাকলে দেখা যায় জাফলং পিয়াইন নদীতে হাজারো শ্রমিকের ঢল দেখতে খুব সুন্দর লাগে।

আমাদের প্রতিনিধিরা শ্রমিকদের কাছে গিয়ে দেখতে পায়, মহিলারা জাফলং পিয়াইন নদীতে দুই তিন জন মিলে বালু চালনি করে বালুর মোটা সাইজ বের করে,কেউ বালুর চিপ বলে আবারো বজুরি নামে ও পরচিত,

তাদের কাছে জানাযায় এভাবে তারা প্রতিদিন দুই বারকি মানে দুই নৌকা করে বালুর চিপ তোলে বিক্রি করে প্রতি নৌকা ২৬০থেকে ২৭০ টাকা করে,

একয় ভাবে পুরুষরা পানিতে বালতি দিয়ে বালু তোলে পানির মধ্যেই চালনি করে চিপ বের করে বিক্রি করেন প্রতি নৌকা ২৬০ টাকা থেকে ২৭০ টাকা পর্যন্ত,

তারা বলেন জাফলং এর বল্লাঘাট পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় জাফলং পিয়াইন নদীতে দ্বিগুণ চিপ শ্রমিক হওয়াতে সঠিক দামে চিপের বারকি বিক্রি করতে পারে না,আগের তোলনায় প্রতি নৌকাতে ৮০/৯০ টাকা কমে বিক্রি করতে হচ্ছে।

আবারো অন্যান্য শ্রমিকরা নদীতে ৩০/২৫ ফুট গভীর থেকে রশি দিয়ে বালতি বেধে পাথর উত্তলন করে। তারা বলেন জাফলং এর বল্লাঘাট পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় অনেক কষ্ট করতে হয় আমাদের, সংসার চালানোর জন্য শীতের মধ্যে পানিতে অনেক যুকি নিয়ে কাজ করতে হয় আমাদের।

যদি সনাতন পদ্ধতিতে জাফলং এর বল্লাঘাট পাথর কোয়ারী চলতো তাহলে আমাদের শীতের মধ্যে পানিতে এতো কষ্ট করে কাজ করতে হতো না। সনাতন পদ্ধতিতে কোয়ারী চললে শুধু পানি শুকানোর জন্য পানির মেশিন চালানো হতো। আর আমাদের পানির মধ্যে কাজ করতে হতো না বলে জানান।

এদিকে জাফলং পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় দূরদূরান্ত থেকে কাজের ছুটে এসে চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে শ্রমিকদের

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলার বাহারপুর ইউনিয়ন কাঠালপুর গ্রামের প্রহ্লাদ দাস পরিবার নিয়ে কাজের জন্য ছুটে আসেন জাফলংগে, তিনি বলেন জাপলংগের প্রতিবারের মতো কাজের জন্য আমরা এসেছি কিন্তু এবারে প্রশাসন নিষেধাজ্ঞা থাকায় জাফলং পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় অনেক কষ্টে জীবন যাপন করতে হচ্ছে আমাদের, প্রতি মাসে বাসা বাড়া দিতে হয় ২৫০০ টাকা,পাথর কোয়ারী বন্ধ থাকায় কোন মতে জাফলং পিয়াইন নদীতে চিপ তোলে বিক্রি করে কোনভাবে সংসার চালাচ্ছেন বলে জানান।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা