নালুয়া চা বাগানে হাই স্কুলের শুভ উদ্ভোধন ও বই বিতরণ উৎসব

লিটন মুন্ডা লস্করপুর ভ্যালী প্রতিনিধি
  • Update Time : বৃহস্পতিবার, ২ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১০৩৫ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃঅাজ ১ জানুয়ারি ২০২০ ইং রোজ বুধবার দুপুর ১ টায় চুনারুঘাট উপজেলার নালুয়া চা বাগানে ” নালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়,, এর শুভ উদ্ভোধন করেন ২ নং অাহম্মাদাবাদ ইউনিয়নের চা শ্রমিকদের জনপ্রিয় চেয়ারম্যান এবং হবিগন্জ জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যোৎসাহী সমাজকর্মী শিক্ষাপদক ২০১৯ বিজয়ী অাবেদ হাসনাত চৌধুরী সন্জু, চন্দ্রমল্লিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি- উসমানী কাজল গনি, চুনারুঘাট রিপোর্টার ইউনিটির সভাপতি – সিনিয়র সাংবাদিক নুরুল অামিন, চুনারুঘাট উপজেলা সাংবাদিক ফোরামের সাবেক সভাপতি – অাব্দুর রাজ্জাক রাজু, বাংলাদেশ কৃষকলীগ চুনারুঘাট শাখার সাধারণ সম্পাদক – মোঃ মুজিবুর রহমান , চুনারুঘাট সাংবাদিক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক – অাজিজুল রহমান নাসির, ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার মাখন গোস্বামী, নুরজিত তাঁতী প্রমূখ।

বিগত ২০১৭ সালে নালুয়া চা বাগানে একটি হাই স্কুল স্থাপনের পরিকল্পনা করেন স্থায়ী চা শ্রমিকরা কিন্তু বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন নির্বাচনের ঝামেলায় কারণে পরিকল্পনার এবং স্থাপনের কাজ থমকে দাঁড়ায়। নির্বাচনে পর নালুয়া চা বাগানে কারিতাস সক্ষমতা প্রকল্পের অায়োজিত একটি অনুষ্ঠানে ২ নং অাহম্মাদাবাদ ইউনিয়নের চেয়ারম্যান অাবেদ হাসনাত চৌধুরী সন্জু নালুয়া চা বাগানে হাই স্কুল নির্মাণের জোরদার করার উদেগ্য গ্রহণ করে। উনার বক্তব্যে পরিপক্ষিতে চা শ্রমিকরা স্কুল স্থাপনে উৎসাহিত হয়।
উৎসাহিত এবং অনুপেরনা অাসলেো কোম্পানি জায়গায় হাই স্কুল নিয়ে সংকোচ এবং চিন্তায় ছিলে চা শ্রমিকরা। চা শ্রমিক, বাগান পঞ্চায়ত প্যানেলে সবাই মিলে বাগান ব্যবস্থাপক জহিরুল ইসলাম এর কাছে হাই স্কুল নির্মাণের কথা পেশ করলে বাগান ব্যবস্থাপক সাহেব এমন চমৎকার পরিকল্পনার জন্য সন্তুষ প্রকাশ করেন এবং নালুয়া ফুটবল মাঠের পাশে জায়গাটায় অনুমতি দেন উনি অারও প্রতিশ্রুতি দেন হাই স্কুলের যাবতীয় কাঠ বাগান থেকে দেওয়া হবে।

নালুয়া চা বাগান ফুটবল মাঠে হাই স্কুলের জায়গা নির্ধারণ হওয়ার পর পরেই নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিকরা, বাগান সভাপতি – উপেন উরাং, ৯ নং ওয়ার্ড মেম্বার – নটবর রুদ্র পাল, ৮ নং ওয়ার্ড মেম্বার – মাখন গোস্বামী, দেবদাস উরাং এর নেতৃত্বে চা বাগানের একঝাক ছাত্র-যুবকদের নিয়ে হাই স্কুল নির্মাণের কাজ শুরু হয়।
অামুরোড হাই স্কুলের সহকারি শিক্ষক – রামেশ্বর ভৌমিজ, মেম্বার পদপ্রার্থী – অাবেদ অাহমেদ, উদয়ন উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক – সুরেনজিত মুন্ডা, শনিরাম মুন্ডা অভি, সাংবাদিক লিটন মুন্ডা, সুমন ভূমিজ, জয়দেব ভূমিজ, রবিন ভূমিজ, কমল ভূমিজ, বিকাশ মুন্ডা, সুরেশ মুন্ডা এদের অক্লান্ত পরিশ্রমে অাজ নালুয়া চা বাগানে নালুয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের পাঠদান কর্মসূচি চালু হলো।

নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিকদের সাপ্তাহিক বেতন ভাতা থেকে সপ্তাহে ৫ টাকা হারে চা শ্রমিকদের কাছ থেকে কর্তন হবে। যতদিন যাবৎ হাই স্কুলের কাজ সম্পূর্ণ না হয় ততদিন পর্যন্ত চাঁদা অব্যাহত থাকবে। নালুয়া উচ্চ বিদ্যালয় নির্মাণ কাজে যাহার চা শ্রমিকদের পাশে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছেন উনারা হলেন – অাবেদ হাসনাত চৌধুরী সন্জু, ২ নং অাহম্মাদাবাদ ইউনিয়নের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী – অালহাজ্ব মোঃ লিটন জমাদার, জাকির হোসেন পলাশ, শামছুল অালম ফুলমিয়া অারও অনেকেই।

নিজের চা বাগানে নালুয়া উচ্চ বিদ্যালয় হওয়ায় চা শ্রমিকরা খুবেই অানন্দিত। এপর্যন্ত ষষ্ঠ – সপ্তম শ্রেনীতে ছাত্র-ছাত্রীদের সংখ্যা ৭৯ জন। ১৫ দিনে ১৫০ এর অধিক ছাত্র-ছাত্রী হবে বলে অাশা করা যাচ্ছে। চা শ্রমিকরা সকলের সহযোগিতা কামনা করছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা