জাফলং চা বাগানে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হাজারো ছাত্র-ছাত্রী, নিচ্ছেনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি।

কালাচান কর্মকার,সিলেট ভ্যালী প্রতিনিধিঃ
  • Update Time : সোমবার, ৬ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১০৭৬ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃ জাফলং চা বাগানের ছাত্র-ছাত্রীদের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি নিচ্ছে না বলে জানা যায়।

তারা বলেন জাফলং চা বাগানে ব্রাক স্কুল এবং একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে এতে ভালো শিক্ষক-শিক্ষিকা না থাকায় আমরা ভাল করে লেখাপড়া করে উঠতে পারছি না।

ব্র‍্যাক স্কুলেতে কোনমতে এসএসসি পাস করা একজন শিক্ষিকা রয়েছেন এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় একজন শিক্ষক একজন -শিক্ষিকা রয়েছেন,নেয় কোন প্রধান শিক্ষক।

জাফলং চা বাগানের ব্র‍্যাক স্কুল এবং বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক এর কাছে জানতে পারি প্রতিবছর জাফলং চা বাগান থেকে দুইশ থেকে আড়াইশো জন ছাত্রছাত্রী পিএসসি পরীক্ষা দিয়ে তাকে। এখনো পর্যন্ত কোন ছাত্র-ছাত্রী ভালো ফলাফল অর্জন করতে পারেনি।

এবছর ও ভাল ফলাফল করতে না পারায় অভিভাবকরা তাদের ছেলে মেয়েকে নিয়ে রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির জন্য নিয়ে যায় কিন্তু সেখানে জাফলং চা বাগানের কোন ছাত্রছাত্রীকে ভর্তি নিচ্ছে না বলে অভিভাবকরা জানান।

অভিভাবকরা যুবলীগ সভাপতি আক্কেল প্রদানের সাথে এ ব্যাপারে কথা বললে তিনি জানান আমি এই ব্যাপারে দেখছি বলে তাদের সান্ত্বনা দেন।

তিনি রাধানগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভর্তি নিচ্ছে না এ বিষয়ে আলাপ করে জানতে পায় রাধানগর নগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন জাফলং চা বাগান আমাদের স্কুলের আওতার বাহিরে এবং জাফলং চা বাগানে ব্র‍্যাক স্কুল এবং একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে তাছাড়া আমাদের স্কুলে বিভিন্ন মহল থেকে ছাত্রছাত্রীরা লেখাপড়া করে, যে মহল গুলোতেকোন বেসরকারি স্কুল ও ব্র‍্যাক স্কুল নেয় এবং আমাদের স্কুলে পর্যাপ্ত পরিমাণে ছাত্র-ছাত্রী রয়েছে।এবং বেশি অতিরিক্ত ছাত্র ছাত্রী তাকায় আমি জাফলং চা বাগান থেকে কোন ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি নিতে পারছিনা এবং পারবোনা বলে জানান।

এদিকে জাফলং চা বাগানের জনগণ জাফলং চা বাগানে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালযয়ের দাবি যানায়,

জাফলং চা বাগানের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এর ব্যাপারে জাফলং চা বাগান যুবলীগ সভাপতি আক্কেল প্রদান উপজেলা আহ্বায়ক ফারুক আহমেদের সাথে আলাপ করলে তিনি বলেন আমি এই ব্যাপারে মন্ত্রীর সাথে আলাপ করবো বলে যানায়।


 

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা