প্রতিশোধ নিতে বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন! আসামী গ্রেফতার

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ১৫ জানুয়ারী, ২০২০
  • ১০১২ Time View

গতকাল ১৪ই জানুয়ারি সকাল অনুঃ ১০.৩০সময় শ্রীমঙ্গলের বধ্যভূমি ৭১ এর পাশে ভাড়াউড়া চা বাগানের মধ্যে কড়ই গাছ এর সাথে কালো রঙের চাদর দিয়ে গলায় বাঁধা অবস্থায় একটা ছেলের লাশ পাওয়া যায় লাশের অবস্থা দেখে অনুমান করাহয় কেহ তাকে খুন করে গাছের সাথে বেঁধে রাখা হয়েছে।

সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আশরাফুজ্জামান এর নেতৃত্বে শ্রীমঙ্গল থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবদুস সালেক পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত মোঃ সোহেল রানা, পুলিশ পরিদর্শক অপারেশন এন্ড কমিউনিটি পুলিশিং নয়ন, এসআই মোঃ আব্দুল মালিক পিপিএম, এসআই মোঃ দেলোয়ার হোসেন,এ এসআই এনামুল হক এএসআই বাসুকান্তী দাস ও একদল পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তাৎক্ষণিক হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্তকরণে মৃতদেহের সাথে থাকা চাদর ও ব্যবহারকারী এবং তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাদের শনাক্ত করা হয়। পরে শ্রীমঙ্গল শহরের সিন্দুরখান রোড, স্টেশন রোড, মৌলভীবাজার রোডে অভিযান পরিচালনা করে স্টেশন রোড এলাকা থেকে সাব্বির মিয়া এবং খাসগাও এলাকা থেকে ফয়সাল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা যানাযায়। জবানবন্দি অনুযায়ী জানা যায় ভিকটিম মোঃ ইব্রাহিম মিয়া রকির সাথে সাব্বির (১৭) মিয়া পিতা আবুল মিয়া সাং জয়নগর ১ নং লোকরা ইউপি থানা ও জেলা হবিগঞ্জ বর্তমান পশ্চিমগাঁও সিন্দুরখান রোড শ্রীমঙ্গল পরস্পরের বন্ধু ছিল। বিগত এক মাস পূর্বে ভিকটিম মোহাম্মদ ইব্রাহিম রকি ও সাব্বির মিয়া দুজনের মধ্যে সিনিয়র জুনিয়র নিয়ে ঝগড়া বাধে। এরপর হইতে সাব্বির মিয়া প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য সুযোগ খুঁজতে থাকে। ঘটনার পর থেকে গত একমাস যাবত তাদের দুজনের মধ্যে কোন যোগাযোগ ছিল না।

অবশেষে গত১৩ই জানুয়ারি  সোমবার সন্ধ্যা ছয়টার সময় ইব্রাহীম মিয়া রকি কে হত্যা করার পরিকল্পনা করে সেই মোতাবেক সাব্বির তাহার আরেক বন্ধু মোঃ ফয়সাল মিয়াকে নিয়ে শ্রীমঙ্গল স্টেশন রোডে একত্রিত হয়। রাত অনুমান সাড়ে ৮ ঘটিকার সময় সাব্বির মিয়া ইব্রাহিম মিয়াকে ফোন করিলে ভিকটিম রকি জানায় সে রেলগেটে আছে, সাব্বির মিয়া ও ফয়সাল মিয়া শ্রীমঙ্গল ভানুগাছ রোডস্থ রেল গেটে গিয়ে ভিকটিম মোঃ ইব্রাহিম মিয়া রকিকে একটি অনুষ্ঠানে যাওয়ার কথা বলে দক্ষিণ ভাড়াউড়া চা বাগানে নিয়ে সাব্বির মিয়া মুখে হাত দিয়ে চেপে ধরে মাটিতে শুয়ে দেয়। সাথে সাথে ফয়সাল মিয়া সাব্বির মিয়া ভিকটিমের হাতে ধরে। মুখে স্কস্টেপ রেকসিন দিয়ে মুখে ও গলায় পেচিয়ে প্রায় ১০ মিনিট ভিকটিমের গলায় হাত দিয়ে চেপে ধরে বুকের উপরে বসে থাকে। তখন পা চেপে ধরে রাখে রকি।মারাগেলে তারা দুইজন মিলে ভিকটিমের জ্যাকেটের ধরে টেনে ৭/৮ হাত দূরে অবস্থিত করই গাছের সাথে সাব্বির মিয়ার ব্যবহৃত কালো রঙ্গের চাদর দুইভাগ করে এবং ভিকটিমের পরিহিত প্যান্টের বেল্ট গলায় পেঁচিয়ে বেঁধে রাখে। পরে তারা ২জনেই বাড়িতে চলেযায় এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল থানার মামলা নং ২২ আজ ১৫ই জানুয়ারি ধারা ৩০২/৩৪পেনাল কোড করা হয়েছে তাদেরকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করিলে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ধারা মোতাবেক স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি প্রদান করেছে বলে থানা সুত্রে যানাযায়।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা