হালদা ভ্যালী চা বাগানের ব্যবস্থাপকের মুক্তির দাবীতে চা শ্রমিকের মানববন্ধন

ডেস্ক নিউজঃ
  • Update Time : শুক্রবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৫০৪ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামীলীগের কৃষি বিষয়ক সম্পাদক হালদা ভ্যালী চা বাগানের ব্যবস্থাপক বাংলাদেশীয় চা সংসদের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম কে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় গ্রেফতারের প্রতিবাদে এবং মামলা প্রত্যাহারের ট ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগটনের উদ্যোগে মানববন্ধন গত ১৫ জানুয়ারী বুধবার সকাল ১১টায় উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয় চত্বরে অনুষ্টিত হয়।

অন্যদিকে ১০টি চা বাগানের কর্মকর্তা কর্মচারী ও শ্রমিকদের আয়োজনের উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে পৃথক মানববন্ধন অনুষ্টিত হয়।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন পৌরসভা আওয়ামীলীগের সভাপতি পৌর মেয়র আলহাজ্ব মোঃ ইসমাইল হোসেন। বোরহান আহমেদের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন-উপজেলা আওয়ামীলীগ নেতা মোহাম্মদ আলী চৌধুরী, হাজী আবুল কাশেম, মোঃ সরোয়ার, মোঃ ইব্রাহিম সবুজ, অাশিষ কান্তি দে, স্বেচ্ছাসেবক লীগ সভাপতি এ কে আজাদ বাবু, ছাত্রনেতা মাইনুল করিম সাউকি, উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মোঃ জামাল, ফটিকছড়ি সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদেক আলী সিকদার শুভসহ আরো অনেকেই।

অন্যদিকে নারায়ানহাট ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান
আবু জাফর মাহমদের সভাপতিত্ত্বে ও হালদা ভ্যালী চা বাগানের সুপার ভাইজার মোঃ টিপু সুলতানের সঞ্চালনায় চা বাগান কর্মকর্তা কর্মচারী ও শ্রমিকদের মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন শ্রমিক প্রতিনিধি নিরঞ্জন নাথ মন্টু, অমর চন্দ্র দাশ ও অসীম চাকমা।

সভায় বক্তারা বলেন, একটি কুচক্রীমহলের ষড়যন্ত্রের শিকার জাহাঙ্গীর আলম। তিনি একজন চাকুরীজিবী, তিনি বাগান বা ভু-সম্পদের মালিক নন। অবিলম্বে জাহাঙ্গীর আলমের মামলা প্রত্যাহার করে নিঃশর্তে মুক্তির দাবী জানান বক্তারা।

পরে শ্রমিক প্রতিনিধিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর একটি স্বারকলিপি প্রদান করেন।

যানাযায়ঃগত ১৪ জানুয়ারি মঙ্গলবার বন আইনের একটি মামলায় আদালতে অাত্নসমর্পন করে জামিনের আবেদন করলে সংশ্লিষ্ট আদালত জামিন আদেশ না মন্জুর করে হালদাভ্যালী চা বাগানের ম্যানেজার জাহাঙ্গীর আলম এবং সহকারী ম্যানেজার রাজিব আহমদ রানাকে কারাগারে পাঠিয়েছে। মামলা নং ১০৯/১৯। মামলার বাদী ফটিকছড়ির নারায়নহাট রেন্জের আওতাধীন বালুখালী বিটের তৎকালীন বিট কর্মকর্তা ( বর্তমানে করেরহাট বিট কর্মকর্তা) নঈমুল ফরেস্টার সুত্রে হালদাভ্যালী ১৩৪ একর জায়গা লিজের কথা বললেও তারা বালুখালী বিটের কয়েকশ একর জায়গা জোরপূর্বক দখল করে বাগানের সীমানায় নিয়ে গেছে।প্রতিনিয়ত তারা দখল কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।আমার আমলে যখনই জায়গা দখল করেছে আমি তাৎক্ষনিক মামলা দিয়েছি।আজ গ্রেপ্তার হয়েছে আমার দায়েরকৃত মামলায়।আমার আমলে তাদের বিরুদ্ধে মোট ১১ টি মামলা দায়ের হয়েছে। এর আগে পরে আরো একাধিক বন মামলা রয়েছে।
এদিকে নারায়নহাট রেন্জ কর্মকর্তা এবং বালুখালী বিটের দায়িত্বে থাকা বর্তমান বিট কর্মকর্তা সুরজিৎ চৌধুরী জানান, হালদাভ্যালী চা বাগান কর্তৃপক্ষ বালুখালী বিটের অধিকাংশ জায়গা জোরপূর্বক দখল করেছে।তাদের বিরুদ্ধে প্রসাশনিক নানা পদক্ষেপ নেয়া হলেও দখলদারিত্ব কমছে না।অভিযোগ করেছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা