সাহেবের বাজারে গাছ কেটে তৈরী করা হচ্ছে কয়লা:পরিবেশ হুমকির মুখে

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২২ জানুয়ারী, ২০২০
  • ৭৪১ Time View

চা শ্রমিক ডটকম,বিশেষ প্রতিবেদকঃসিলেট শহরতলীর খাদিমনগর ইউনিয়নের সাহেবের বাজার এলাকার ফড়িংউড়া গ্রামে অবৈধ ভাবে গাছ কেটে তৈরী করা হচ্ছে কয়লা (আংরা),পরিবেশ পড়ছে হুমকির মুখে।সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়,বেশকিছু জায়গা জুড়ে
ছোট ছোট গাছ কেটে বড় বড় গর্তে তা পুড়ানো হচ্ছে,কালো ধুয়া ছেয়ে গেছে পুরো গ্রাম।আশপাশে মানুষের ঘর বাড়ী এবং শত শত মানুষের বসবাস রয়েছে।এসকল গাছ কোথা হতে সংগ্রহ করে পুড়ানো হচ্ছে তা বের করতে গিয়ে উঠে আসে নানা তথ্য।
এলাকার একজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান,এই পরিবেশ বিধ্বংসী কয়লার প্রস্তুতকারী গৌরাঙ্গ পাত্র রাতের আঁধারে খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান,কালাগুল চা বাগান,আশপাশের টিলা প্রভৃতি
এলাকা হতে অবৈধ ভাবে হাজার হাজার ছোট ছোট গাছ কেটে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
অবৈধ ভাবে এসব গাছ কাটায় কেউ তাকে বাঁধা নিষেধ করেছেন কি না? এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান,
পরিবেশের ক্ষতি করে কয়লা প্রস্তুত না করার জন্য তাকে বার বার এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ নিষেধ করেছেন কিন্তু সে কারো কথায় পাত্তা দেয়নি বরং এই অবৈধ কাজ দিন দিন প্রসারিত করে যাচ্ছে,রাতের আঁধারে ফরেস্টের গাছ চুরির জন্য তার একটি চক্র রয়েছে বলে ঐ সূত্র জানিয়েছে।
এছাড়া গৌরাঙ্গের বিরুদ্ধে জোরপূর্বক অন্যের জাগা দখলেরও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের গাছ কাটার কথা জানতে চাইলে,উদ্যানকর্মী আব্দুল কাদির বলেন,খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান দেশের সম্পদ।উদ্যানের ফরেস্টের গাছ রাতের আঁধারে দীর্ঘদিন ধরে চুরি হচ্ছে,আমরা গৌরাঙ্গের কয়লা পুড়ানোর খবর জানতে পেরে সেখানে যাই,গিয়ে দেখি,ইট ভাটার মতন বড় বড় গর্ত করে তিনি গাছ জ্বালিয়ে কালো ধুয়া দিয়ে পরিবেশ নষ্ট করছেন,আমরা তাকে নিষেধ করে এসেছি এবং শীঘ্রই নোটিশ দিয়ে তা বন্দের জন্য প্রদক্ষেপ নিতে যাচ্ছি।তারপরও তিনি তা না মানলে আইনের আশ্রয় নেয়া হবে।

সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউ এন ও)’র পক্ষ থেকে সরজমিনে তদন্তকারী একজন কর্মকর্তার সাথে কথা হলে তিনি জানান,গৌরাঙ্গ পাত্র ছোট ছোট গাছ কাটছেন যা ঠিক না,সম্পূর্ণ বেআইনী।আবার
তা জ্বালিয়ে আশপাশের পরিবেশ তিনি বিনষ্ট করছেন ,অভিযোগের প্রেক্ষিতে ব্যবস্হা নেয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন তিনি।

এসময় গৌরাঙ্গ পাত্রের সাথে কয়েক বার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদকের সাথে তিনি কথা বলতে রাজী হননি।

জানা যায়,গৌরাঙ্গ পাত্র দীর্ঘদিন ধরে গাছ কেটে অবৈধ ভাবে কয়লা তৈরী করছেন,পরিবেশ ধ্বংসের মুখে থাকা সত্তেও তিনি তার কৃতিম কয়লাখনি সম্প্রসারিত করছেন দিন দিন।এলাকাবাসী পরিবেশ অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপ কামনা করে তার উপযুক্ত শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা