সিলেটে ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের সমাপনী কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত

মোহাম্মদ হানিফ, সিলেট ভ্যালী প্রতিনিধি
  • Update Time : সোমবার, ২৪ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ৪৫৬ Time View

চা শ্রমিক ডটকমঃসিলেটে ৬ষ্ঠ ব্যাচের সমাপনী ট্রেইনি রিক্রুট কনস্টেবলদের কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার সকাল ১০টায় পিটিসি নোয়াখালী সংযুক্ত ট্রেনিং সেন্টার আরআরএফ লালাবাজার, সিলেটের টিআরসি (ট্রেইনিরিক্রুট কনস্টেবল) কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।
টিআরসিগণ দীর্ঘ ৬ মাসের কঠোর মৌলিক প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করে বাংলাদেশ পুলিশে নিয়মিত সদস্য হিসেবে অন্তর্ভূক্ত হবে।
কুচকাওয়াজে ময়মনসিংহ জেলার ২০৩ জন ও বান্দরবান জেলার ৪৬ জনসহ সর্বমোট ২৪৯ জন টিআরসি অংশগ্রহণ করেন।
কুচকাওয়াজে প্রধান অতিথি হিসেবে প্যারেড পরিদর্শন করেন- সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি মো. কামরুল আহসান, বিপিএম।
প্যারেড অনুষ্ঠানে টিআরসিদের উদ্দেশ্যে প্রদত্ত ভাষণে তিনি টিআরসিদের মনোমুগ্ধকর কুচকাওয়াজের ভূয়সী প্রশংসা করেন।
তিনি তার ভাষণে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদাত্ত আহবানে সাড়া দিয়ে ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধের সূচনালগ্নে ২৫ মার্চের ভয়াল কাল রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে সর্ব প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলা বীর পুলিশ সদস্যদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন।
তিনি “মুজিববর্ষের অঙ্গীকার পুলিশ হবে জনতার” এই মূলমন্ত্রে দীক্ষিত হয়েন বীর পুলিশ সদস্যদের কর্মজীবন আরো উদ্দীপ্ত হয়ে “দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালন” এই মূলনীতিতে অবিচল থেকে জনসেবায় আত্মনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
আরআরএফ কমান্ড্যান্ট মো. মাহমুদুর রহমান, পিপিএম এর সার্বিক দিকনির্দেশনায় টিআরসিদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।
সমাপনী কুচকাওয়াজে অধিনায়ক ছিলেন- পুলিশ পরিদর্শক মো. বাহার উদ্দিন, আরআরএফ সিলেট এবং সহ অধিনায়ক ছিলেন এসআই(সশস্ত্র) মোঃ মিজানুর রহমান।
প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে টিআরসি/৮৯ মো. সাখাওয়াত হাসান সাকিব সকল বিষয়ে (আইন, প্যারেড, পিটি ও ফায়ারিং) শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করেন। এছাড়া আইন বিষয়ে টিআরসি/৯২ নাছির আহম্মেদ তরফদার, প্যারেডে টিআরসি/০৬ অপু মার্মা, পিটিতে টিআরসি/২৫ মাহমুদুল হাসান, ফায়ারিং এ টিআরসি/২৬ মিজানুর রহমান ১ম স্থান অর্জন করেন। শ্রেষ্ঠত্ব অর্জনকারী টিআরসিদের প্রধান অতিথি ট্রফি বিতরণ করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন- এসএমপির পুলিশ কমিশনার গোলাম কিবরিয়া বিপিএম, সিলেট রেঞ্জের অতিরিক্ত ডিআইজি জয়দেব কুমার ভদ্র বিপিএম, এসএমপি, সিলেটের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার পরিতোষ ঘোষ, মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ পিপিএম (বার), সুনামগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বিপিএম, সিলেটের পুলিশ সুপার মো. ফরিদ উদ্দিন পিপিএম-সেবা, হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ উল্ল্যা বিপিএম, পিপিএম, পুলিশ সুপার রেঞ্জ কার্যালয় নূরুল ইসলাম, এনএসআই, সিলেট এর যুগ্ম পরিচালক মো. সরোয়ার হোসেন, এসএমপি এর উপ-পুলিশ কমিশনারবৃন্দ, এসএমপি, সিলেটের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ জাবেদুর রহমান, এসএমপি, সিলেটের পুলিশ সুপার (মিডিয়া এন্ড কমিউনিটিসার্ভিস) জেদান আল মুসা, কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট, সিলেট কমিশনার মোহাম্মদ শফিউর রহমান, র‌্যাব-৯ এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ মনিরুল ইসলাম, সিলেট রেঞ্জ ও এসএমপির অন্যান্য পুলিশ কর্মকর্তাবৃন্দ, সম্মানিত প্রিন্ট ও ইলেকট্রিনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ, স্থানীয় জন প্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ লালাবাজার এলাকার গন্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা