তেলিয়াপাড়া চা বাগানে  পিকনিক করতে আসা ছাত্র-চা শ্রমিক সংঘর্ষ

Reporter Name
  • Update Time : বুধবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০
  • ১৫৩০ Time View

চা শ্রমিক ডটকম: হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় পিকনিক করতে আসা মাদ্রাসা ছাত্র ও শিক্ষকদের সাথে চা শ্রমিকদের সংঘর্ষে ১৫ জন আহত হয়েছে।

গতকাল মঙ্গলবার ২৫শে ফেব্রুয়ারি বিকাল৪.৩০ঘঠিকার দিকে মৌলভীবাজার থেকে একটি দাখিল মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষকরা মাধবপুর উপজেলার ঐতিহাসিক তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ এলাকায় পিকনিক করতে আসে। এসময় তারা কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই বাগান এলাকায় প্রবেশ করলে নিরাপত্তা কর্মীরা বাধা প্রদান করলে তর্কবিতর্কের এক পর্যায়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়।

গুরুতর আহত তাপস নায়ক (২০) কে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভর্তি করা হয়েছে।

সে মাধবপুর উপজেলার তেলিয়াপাড়া চা বাগানের অফিস টিলার বিশু নায়ক এর ছেলে।

আহত তাপস নায়ক জানান, মৌলভীবাজার থেকে মাদ্রাসার কয়েকশো ছাত্র শিক্ষক কর্তৃপক্ষের অনুমতি না নিয়েই চা বাগানে প্রবেশ করলে গেইটের দায়িত্বে থাকা লোকজন বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাদ্রাসা ছাত্র ও শিক্ষকরা চা শ্রমিকদের উপর হামলা করে।

চা শ্রমিক নেতা স্বরজিত পাশী ও দিলিপ সাঁওতাল জানান, মৌলভীবাজার থেকে পিকনিক করতে পাঁচটি বড় যাত্রীবাহী বাস নিয়ে একটি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষকরা কোন অনুমতি না নিয়েই বাগানে প্রবেশ করলে শ্রমিকরা বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে তারা চা শ্রমিকদের উপর হামলা করে। এসময় চা শ্রমিকরা পাগলা ঘন্টা বাজিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে পাল্টা হামলা চালালে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়।

তেলিয়াপাড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো. গোলাম মোস্তফার সুত্রে জানাযায়, মৌলভীবাজার থেকে পিকনিক করতে আসা প্রায় ৩০০/৩৫০ মাদ্রাসা ছাত্র ও শিক্ষক অনুমতি না নিয়েই চা বাগান এলাকায় প্রবেশ করলে চা শ্রমিকরা বাধা দেয়। এক পর্যায়ে উভয় পক্ষ সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। কয়েকজন মাদ্রাসা শিক্ষক ও চা শ্রমিক সামান্য আহত হয়েছে। গুরুতর আহত একজন চা শ্রমিককে মাধবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্য আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।

 

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category

চা শ্রমিক ডটকমঃ গত ২ মার্চ সোমবার রাতেই নির্মমভাবে খুন করা হয় নিরীহ চা শ্রমিক বিশু মুন্ডাকে। ৩ মার্চ মঙ্গলবার বিশুর লাশ উদ্ধার করেন চুনারুঘাটের পুলিশ এবং বাগানের ২ মেম্বার ও পঞ্চায়েতের উপর তদন্ত করার অাদেশ দেওয়া হয় তদন্তে সফল নাহলে বুধবার রাতেই চুনারুঘাট পুলিশ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করতে থাকে বুধবার রাত ৮ টার সময় বিশু খাড়িয়া ও বুড়ু মুন্ডাকে পুলিশ জিঙ্গাসাবাদে জন্য চুনারুঘাট থানায় নিয়ে যায় এবং সেদিন রাতে অনিল ঝরা কালা কে ও রাত ১১ টায় অাটক করা হয়। ৫ মার্চ বৃহস্পতিবারে সকালে বিষ্ণু ঝরাকে ও থানায় নেওয়া হয়। তিনদিনের মধ্য নালুয়া চা বাগানের চা শ্রমিক খুনের ঘটনায় দু’জনের স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিয়েছে আসামী বিশু খাড়িয়া।

৬ মার্চ শুক্রবার হবিগঞ্জের আমলি আদালত ২ এর সিনিয়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল হাসান এর কাছে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দেয় সে।

স্বীকারোক্তিতে আসামী বিশু খাড়িয়া জানান, আসামি বিশু খাড়িয়ার মেয়ে গঙ্গামনি কে নালুয়া চা বাগানের পশ্চিমটিলায় বিয়ে দেন। আসামীর মেয়ের পরপর দুইটা বাচ্চা মারা যায়। বিশু খাড়িয়া কবিরাজের কাছে নিয়ে গেলে, কবিরাজ বলে নিহত বিষু মুন্ডা তার মেয়ের উপর টুটকা (যাদু) করায় মেয়ের বাচ্চা গুলো মারা যায়। এই কথা শুনে আসামীর মাথা গরম হয়ে যায়। সে তাকে মারার জন্য বিভিন্ন ভাবে ওত পেতে থাকে।

গত ০২-০৩-২০২০ ইং সোম বার পাশের গ্রামের মুলু সাওতালের বাড়ীতে তার ছেলের বিয়েতে যায় তারা । সেখানে আরো লোকজনের সাথে আসামি ও তার বায়রা ললির ছেলে কালা ঝরা, বিশু মুন্ডা ও ছিল। বিয়ে বাড়ীতে খাওয়া দাওয়া ও গান বাজনা শেষে বুড়ু মুন্ডার বাড়ীতে সবাই হারিয়া (মদ) খায়।

বিয়ে বাড়ীতে গান গাওয়া নিয়ে আসামি আর বিষু মুন্ডার মধ্য কথা কাটাকাটি হয়।পরে রাত ১১.০০ টার দিকে হারিয়া (মদ) খাওয়া শেষে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা ঝরা নিহত বিশু কে নিয়া বট গাছের নিচে আসে। পরে পাশের খলা হতে বাশ আনিয়া প্রথমে কালা ঝরা নিহত বিষু মুন্ডার মাথায় দুটি আঘাত (বারি) করে। আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালার হাত থেকে বাশ নিয়া নিহত বিশু মুন্ডার মাথায় একটি (বারি) আঘাত করে।

বিশু মুন্ডা মাটিতে পড়ে গেলে বিশুর গলার মাফলার দিয়া আসামি ও কালা তার গলায় পেচিয়ে ফাঁস লাগায়।

পরে আসামি বিশু খাড়িয়া ও কালা বিশু মুন্ডার লাশ তার গলার মাফলারে ধরিয়া টানিয়া পাশের দুমদুমিয়া বিলের পাড়ে ফেলে দেয়।

পরে তারা বাড়ীতে চলে যায়।
উল্লেখ্য গত ৩ মার্চ সকালে নালুয়া চা বাগানের পিকনিক স্পট দুমদুমিয়াতে বিশু মুন্ডার লাশ পাওয়া যায়। পরে সার্কেল এএসপি নাজিম উদ্দিন, চুনারুঘাট থানার ওসি শেখ নাজমুল হক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরে ওসি তদন্ত চম্পক দাম ও মামলার তদন্তকারী অফিসার এসআই শহিদুল ইসলাম তদন্ত করে তিন দিনের মধ্য ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের গ্রেফতার করে ঘটনা স্বীকারোক্তি নেন।

নালুয়ার চা শ্রমিকের হত্যাকারী গ্রেফতার স্বীকারোক্তি জবানবন্দী দিলেন অাসামীরা